শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ওরা মানুষ নয়, পশু

মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, ধর্ম বিষয়টা আসলে কী, ধর্ম দিয়ে মানুষ কী করবে? এর জবাব কিন্তু সহজ নয়। কারণ, ধর্ম নিয়ে কাজ করছেন নানা পক্ষ। একটি পক্ষ আসলেই ধর্ম নিয়ে কাজ করছেন, আর একটি পক্ষ ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছেন। অন্য একটি পক্ষ ধর্মে বিশ^াসী না হয়েও ধর্ম নিয়ে কাজ করছেন, তারা ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমন বাস্তবতায় ধর্মের স্বরূপ উপলব্ধি ও চর্চার বিষয়টি কিছুটা কষ্টকর বৈকি। কারণ, ধর্ম চর্চায় জান প্রয়োজন, প্রয়োজন সংযম ও ত্যাগ। প্রকৃত ধর্ম চর্চায় তেমন সুবিধা নেই, বরং ইহলৌকিকবাদী বর্তমান সভ্যতায় অসুবিধার মাত্রাই বেশি। ফলে প্রকৃত ধর্মবোধে উজ্জীবিত হযে কাজ করার মত মানুষের সংখ্যা এখন বেশ কম। বর্তমান ভোগবাদী সভ্যতায় নগদপ্রাপ্তিই মুখ্য হয়ে উঠেছে, ফলে পরকাল ভাবনায় গরজ কম। মানুষ যদি স্রষ্টায় ইমান না রাখে, জবাবদিহিতা তথা কর্মফলে আস্থা না রাখে, তাহলে এবং প্রকার ধার্মিক দিয়ে সমাজের কোনো কল্যাণ সাধিত হবে কী? নাম তার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান বা অন্য কিছু হলেও তাতে কিছু যায় আসে কী?

যখন কোনো ধর্মের মানুষ ও তাদের উপাসনালয়ে হামলা হয়, তখন ধর্ম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, ধর্ম দিয়ে আমরা কী করবো? ধর্ম তো হানাহানি ও সাম্প্রদায়িকতার মাত্রা বাড়ায়। এখানে প্রশ্নটি বোধহয় ঠিকভাবে করা হলো না। আসলে ধর্ম নয়, অধর্মই সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার প্রসার ঘটায়। আর এমন কর্মে সব দেশেই অবদান রাখেন কিছু রাজনীতিবিদ ও ধর্মব্যবসায়ী। তারা বেশ চতুর ও বিত্তবান, প্রোগাপান্ডার মাধ্যমে তারা ধর্মকে কালিমালিপ্ত করে নিজেরা বিজয়ী হতে চান। তাদেরকে প্রশ্ন করতে হয়, কোনো ধর্ম কি অপর ধর্মের মানুষ ও উপাসনালয়ে হামলা করতে বলে? তাহলে তারা কারা, তারা কি আপনারা নন? ধর্ম তো একটি জীবন দর্শন; কমিউনিজম, ভোগবাদ, নাস্তিকতাবাদ ও জীবন দর্শন। অনেকেই তো এখন ধর্মের সমালোচনা করছেন; কিন্তু অন্য জীবনদর্শনগুলো কি মানুষকে কাংখিত সমাজ উপহার দিতে পেরেছে? তা হলে বর্তমান সময়ে শুধু ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন? এটা কি এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা নয়? বর্তমান সভ্যতায় মূল সমস্যা হলো কথা ও কাজে গড়মিলের সমস্যা। পরকালে জবাবদিহিতার চেতনা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান কি সম্ভব?

৩০ আগস্ট রাজধানীর ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত আলোচনায় ধর্ম উপদেষ্টা ডক্টর আ. ফ. ম. খালেদ হোসেন বলেন, আবহমানকাল থেকেই এ দেশে অসাম্প্রদায়িক আবহ বিরাজমান। এটাকে কোনোক্রমেই নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। একশ্রেণীর মতলবি মানুষ মাঠে নেমেছে সরকারকে বিব্রত করার জন্য। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। উপাসনালয়ে যারা হামলা করে তারা মানুষ নয়, পশু। এই পশুদের কঠোর শাস্তির বার্তা দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা। কর্মদোষে মানুষ যখন পশুতে অধপতিত হয়, তখন কঠিন শাস্তিই তার প্রাপ্য। সমাজকে মানুষের বসবাসযোগ্য রাখতে হলে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের কোনো বিকল্প আছে কি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ